প্রজেক্ট আপা

তৃণমূল সংগঠনের জন্য ডকুমেন্টেশন টুল · ২০২৬

আপা শুরুর গল্প

বাংলাদেশে যৌনকর্মী, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার, এবং নারী অধিকার আন্দোলনের সংগঠনগুলো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধিকার আদায়ের কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠন গুলো কমিউনিটিকে সংগঠিত করে, অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করে, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়, এবং যে আন্দোলন গুলোকে মূলধারার উন্নয়ন খাত বারবার উপেক্ষা করে সেসব টিকিয়ে রাখার কাজ করে।

তাদের কাজের অভিজ্ঞতা, তথ্য ও প্রমাণ স্থানীয়, জাতীয়, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিকার আদায়ের লড়াইকে শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই তারা তাদের কাজের উপযুক্ত কোনো রেকর্ড রাখতে পারে না। কারণটা সহজ, এই কমিউনিটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে এমন কোনো টুল এখনো তৈরি হয়নি।

বাজারে যতো ডকুমেন্টেশন টুল আছে তার সবই ইংরেজিতে। সবই ধরে নেয় যে ব্যবহারকারী আগে থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে পরিচিত এবং সংগঠনের এমন কর্মী আছে যে প্রশাসনিক কাজ ইংরেজিতে করতে পারবে। কিন্তু বাংলায় কথা বলা, কম পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া তৃনমূল পর্যায়ের অধিকার কর্মীদের জন্য এই সব টুল নাগালের বাইরে। ফলে তাদের সংগঠনের মিটিং মিনিটস থাকে হোয়াটসঅ্যাপে, বাজেটের হিসাব থাকে ব্যক্তিগত নোটবুকে, আর সংগঠনের শিক্ষিত কোনো কর্মী চলে গেলে কাজের প্রমাণও তার সাথে হারিয়ে যায়। ফলে অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার ধারাবাহিক রেকর্ড কখনো তৈরি হয় না।

যে অধিকার হারানোর প্রমাণ দেখানো যায় না, সেই অধিকারের জন্য লড়াই করা যায় না।

আমাদের আপা টুল এই পরিস্থিতি বদলাতে এসেছে।

কেনো 'আপা'

আপা একটি বাংলা-ভিত্তিক, সীমিত আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যবহারকারীদের উপযোগী ডকুমেন্টেশন টুল, যা বিশেষভাবে যৌনকর্মী, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার মানুষ, এবং নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করছে এমন তৃনমূল সংগঠনের জন্য কাজ করবে।

'আপা' মানে বড় বোন। কাছের এবং বিশ্বাসী একজন। যে কমিউনিটির বাইরে থেকে এসে সমাধান দেয় না, বরং সবসময়ই সাথে ছিল এবং আছে। যে সামলে রাখে, কিন্তু নিজের দখল খাটায় না।

আমাদের আপাও ঠিক সেই ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। আপার কাজ হলো কমিউনিটি কর্মীদের পাশে থেকে, তাদের নিজের ভাষায়, তাদের নিজের কাজের রেকর্ড যেন তারা নিজেরাই রাখতে পারে সেই সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

আমরা কী তৈরি করছি

আপার মাধ্যমে সম্পূর্ণ বাংলায়, সহজ কাঠামোতে সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম লিখে রাখতে পারবে, বাজেটের হিসাব রাখতে পারবে, সভার কার্যবিবরণী তৈরি করতে পারবে, এবং তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে পারবে যেটা দাতা সংস্থার রিপোর্ট এবং অধিকার আদায়ের লড়াই দুটোতেই কাজে লাগবে।

আমরা এখন এমভিপি (MVP-Minimum Viable Product) অর্থাৎ প্রথম কার্যকর সংস্করণ পর্যায়ে আছি। প্রথম কার্যকর সংস্করণটি তৈরির কাজে দুটি পার্টনার সংগঠনের সাথে কাজ করছি: কল্যাণময়ী নারী সংঘ (KMNS) এবং সচেতন হিজড়া অধিকার ও যুব সংঘ (SHOJS)। তাদের মতামত এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিটি ডিজাইন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। আমরা এই মুহুর্তে পাইলট পর্যায়ের জন্য ফান্ডিং খুঁজছি।

আমরা কীসে বিশ্বাস করি

কমিউনিটির মালিকানায় কোনো আপোস নেই

কমিউনিটি আপাকে যে তথ্য দেয় সেটার মালিকানা কমিউনিটির নিজের। আমরা এই তথ্য থেকে কোনো লাভ করি না, কমিউনিটির অনুমতি ছাড়া কারো সাথে শেয়ার করি না, বা অন্য কারো স্বার্থে ব্যবহার করি না। আপা টুলের মাধ্যমে তৈরি করা রেকর্ড পুরোপুরি সংগঠনের নিজের এবং এই রেকর্ড ব্যবহার করা, শেয়ার করা বা না করার সিদ্ধান্ত তাদের।

বাংলা — নিজের ভাষা, নিজের কাজ, নিজের অধিকার

বাংলা আপার মূল ভিত্তি। প্রতিটি ডিজাইন সিদ্ধান্তের শুরুতে একটাই প্রশ্ন থাকে: বাংলাদেশে সীমিত পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া এবং আগে কখনো এই ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার না করা একজন কমিউনিটি অধিকারকর্মী কি কারো সাহায্য ছাড়াই এটা ব্যবহার করতে পারবে? যদি না পারে, তাহলে আমরা ধরে নিই যে আপা তার কাজ ঠিকমতো করতে পারছে না।

আপোষহীন নিরাপত্তা

আপা যেসব কমিউনিটির জন্য কাজ করে, তাদের অনেকেই নজরদারি, সামাজিক কলঙ্ক, এবং আইনি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তথ্য নিরাপত্তায় অবহেলা থাকলে যেকোনো ডকুমেন্টেশন টুল কমিউনিটির জন্য সাহায্য না হয়ে বরং বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে টুলটির কাঠামোতেই নিরাপত্তা গেঁথে দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনমুখী ভূমিকাই মুখ্য

আপার তৈরি হয় ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর চাহিদা অনুযায়ী। দাতারা কী দেখতে চায় তা আপার অগ্রাধিকার নয়। কমিউনিটির স্বায়ত্তশাসনের বিনিময়ে দাতাদের সন্তুষ্ট করতে আমরা কোনো ফিচার তৈরি করবো না।

আপা টিম

রাজকুমারী · প্রোডাক্ট ডিজাইনার ও ডেভেলপার

রাজকুমারী ২০১৯ সাল থেকে একজন অধিকারকর্মী এবং ডেভেলপার হিসেবে বাংলাদেশের হিজড়া ও কুইয়্যার সংগঠনগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। বছরের পর বছর কমিউনিটি সংগঠনগুলোকে ডকুমেন্টেশন নিয়ে জটিলতায় ভুগতে দেখেই আপার ধারণা পান। তিনি আপার ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট পরিচালনা করেন।

জান্নাত হুসনা · প্রোগ্রাম ও পার্টনারশিপ লিড

জান্নাত একজন অধিকারকর্মী যিনি যৌনকর্মী ও হিজড়া কমিউনিটির সাথে কাজ করেন। তিনি আপার পার্টনারশিপ এবং প্রোগ্রাম উন্নয়ন পরিচালনা করেন এবং নিশ্চিত করেন যে আপার ডিজাইনের সাথে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বাস্তবতার সামঞ্জস্য থাকে।

মিনজু হক · ডেভেলপার

মিনজু ২০১৯ সাল থেকে সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি উদ্দেশ্যমূলক এবং কমিউনিটি কেন্দ্রিক প্রযুক্তি তৈরি করতে চান। রাজকুমারীর পাশাপাশি তিনি আপার টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্টে কাজ করছেন।

আপা যা নয়

  • আপা কোনো নজরদারির টুল নয়। এটা কমিউনিটির সদস্যদের অজান্তে তথ্য সংগ্রহ করে না, এবং দাতা সংস্থাসহ বাইরের অন্য কোনো পক্ষের কাছে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে না।
  • আপা কমিউনিটির দেওয়া তথ্য থেকে লাভ করে না। কমিউনিটির তথ্য বিক্রি করা হয় না, শেয়ার করা হয় না, বা সংগঠনের নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না।
  • আপা কমিউনিটিকে দাতাদের কাছে দৃশ্যমান করার জন্য তৈরি নয়, বিশেষত যদি সেটা কমিউনিটির নিজের স্বায়ত্তশাসনের বিনিময়ে হয়। আপায় তৈরি রেকর্ড সংগঠনের নিজের। এই তথ্য ব্যবহার করা, শেয়ার করা বা না করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের।

যোগাযোগ করুন

আপনি যদি আপার পাইলট পর্যায়ে যুক্ত হতে আগ্রহী কোনো সিবিও (CBO), এই উদ্যোগকে সহায়তা করতে আগ্রহী কোনো দাতা সংস্থা, অথবা একই ধরনের ক্ষেত্রে কাজ করা এমন কোনো সংগঠন হোন, যারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান - আমরা আপনার সাথে কথা বলতে আগ্রহী।

ইমেইল: projectapa.app@gmail.com